প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেটে কার্যকর করারোপের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হয়নি

Jun 6, 2024

–উন্নয়ন সমন্বয়

আসন্ন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের যে বাজেট আজ মহান জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হলো সেখানে সিগারেটে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে বাংলাদেশে ধূমপানের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিয়ে আনা এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির যে সুযোগ ছিল তা কাজে লাগানো হয়নি। উন্নয়ন সমন্বয়-সহ দেশের তামাক-বিরোধী নাগরিক সংগঠনগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষকদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে এই বাজেটে সিগারেটের ওপর কার্যকর করারোপের যে প্রস্তাবনা অর্থমন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে দিয়েছিলো তা এই প্রস্তাবে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

দেশে মোট ব্যবহৃত সিগারেটের ৭০ ভাগের বেশি সবচেয়ে সস্তা নিম্ন স্তরের সিগারেট হওয়ায় এই বাজেটে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দশ-শলাকার একেকটি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছিলো। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এই দাম মাত্র ৫ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে এই দাম ১১ শতাংশ বেড়েছে মনে হলেও- ১০ শতাংশের আশেপাশে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে প্রকৃত পক্ষে নিম্ন স্তরের সিগারেটের দাম বাড়েনি। এই স্তরের সিগারেটের ওপর ৫৮ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ধার্য করা আছে যেখানে অন্যান্য উচ্চতর স্তরের সিগারেটের জন্য সম্পূরক শুল্ক ৬৫ শতাংশ। আসন্ন অর্থবছরের বাজেটে এই ব্যবধান কমাতে নিম্ন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ৬৩ শতাংশ করার প্রস্তাব থাকলেও এই হার বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা হয়েছে। প্রত্যাশামাফিক না হলেও নিম্ন স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্কের সঙ্গে উচ্চতর স্তরের সিগারেটের সম্পূরক শুল্কের ব্যবধান কমিয়ে আনার এ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়।

মধ্যম, উচ্চ, ও প্রিমিয়াম স্তরের সিগারেটের দশ-শলাকার একেকটি প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৩ টাকা, ৭ টাকা, ও ১০ টাকা বাড়িয়ে যথাক্রমে ৭০ টাকা, ১২০ টাকা, ও ১৬০ টাকা করা হয়েছে। এগুলোর ক্ষেত্রেও তামাক-বিরোধীদের প্রস্তাবনা প্রতিফলিত হয়নি। আপাত দৃষ্টিতে এই সিগারেটগুলোর দাম ৪ থেকে ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে মনে হলেও ১০ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় এই তিন স্তরের সিগারেট আগের তুলনায় আসলে সহজলভ্যই হয়েছে।

কাঙ্ক্ষিত হারে দামা বাড়ানো না হলেও কিছুটা দামবৃদ্ধির কারণে সিগারেটের বিক্রি চলতি বছরের তুলনায় ০.৩ শতাংশ কমতে পারে। তবে তামাকবিরোধী নাগরিক সংগঠনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হলে চলতি বছরের তুলনায় আসন্ন বছরে প্রায় ২ শতাংশ সিগারেট বিক্রি কমানো যেতো। সিগারেটের এই প্রস্তাবিত দাম বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরের তুলনায় আসছে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার মতো বাড়তি (১১ শতাংশ বাড়তি) রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। তবে তামাকবিরোধীদের প্রস্তাবনা অনুসরণ করলে চলতি বছরের চেয়ে অন্তত ২৮ শতাংশ বাড়তি রাজস্ব পাওয়া যেতো, যা টাকার অঙ্কে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাজেটে এই সামান্য দামবৃদ্ধির কারণে দেশে ধূমপানের হার ১৫.১ শতাংশ থেকে কমে ১৪.৬ শতাংশ হবে। অথচ কার্যকরভাবে দাম বাড়িয়ে যথাযথ করারোপ করা গেলে এই হার আরও কমিয়ে ১৩.৮ শতাংশে আনা সম্ভব হতো বলে জানিয়েছে উন্নয়ন সমন্বয়।

Budget has not utilized the opportunity of effective taxation on cigarettes

-Unnayan Shamannay

Through ensuring effective taxation on cigarettes, Bangladesh could see significant reduction in cigarette use and increase in government’s revenue simultaneously. The National Budget proposed for FY 2024-25 has not utilized this opportunity. National level civil society organizations including Unnayan Shamannay worked together with national and international researchers to come up with effective cigarette taxation proposals for the coming fiscal years. While these proposals have been communicated to the Ministry of Finance and the National Board of revenue well ahead of the Budget Session of the National Parliament, they have not been adequately reflected in the proposed budget.

Of all the cigarettes used in Bangladesh, over 70 percent are low-tier cigarettes. Given this context, anti-tobacco stakeholders proposed to increase the price of a 10-stick pack of low-tier cigarettes from BDT 45 to BDT 60. However, the price has been increased only by BDT 5 (i.e., BDT 50 per 10-stick pack of low-tier cigarette). While this may appear as a 11 percent increase in the retail price of low-tier cigarettes, if the prevailing 10 percent inflation is considered- it becomes evident that the low-tier cigarettes will become further affordable in the coming fiscal year. However, the move to raise the supplementary duty on low-tier cigarettes from 58 percent to 60 percent has been welcomed by anti-tobacco activists. While they have been advocating to raise the ratio even higher (to 63 percent), still this is a significant achievement in terms of closing the gap between supplementary duties on low-tier cigarettes and that on other higher tier cigarettes.

The prices of 10-stick packs of medium-, high-, and premium-tier cigarettes have been increased by respectively BDT 3, BDT 7, and BDT 10. That is the new retail prices will be BDT 70, BDT 120, and BDT 160 respectively. Proposals from the anti-tobacco activists have not been reflected in these new increased prices either. While, in nominal terms, prices of these cigarettes has been raised by 4 to 7 percent, given the prevailing 10 percent inflation, these cigarettes too are most likely to become further affordable in the coming fiscal year.

Although the prices of cigarettes have not been increased as desired, still these nominal increases will result in reducing cigarette sales by 0.3 percent in the coming fiscal year. However, if the proposals from the anti-tobacco organizations were implemented- cigarette sales would come down even more (by almost 2 percent). If the proposals in the National Budget are followed then the revenue earned by the government from cigarette sales will increase by approximately BDT 40 billion compared to the ongoing fiscal year (an 11 percent increase). But it could have been increased by 28 percent (BDT 100 billion) if the prices were increased as proposed by the anti-tobacco organizations. Smoking prevalence can be expected to come down from 15.1 percent to 14.6 percent because of the proposals in this budget. This ratio could have come down further to 13.8 percent if the proposals of the anti-tobacco organizations were reflected in this budget.

বাজেটে ঘাটতি কমিয়ে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও কম করা যেতো
বাজেটে ঘাটতি কমিয়ে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও কম করা যেতো

-উন্নয়ন সমন্বয়ের বাজেট প্রতিক্রিয়া অধিবেশনে ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান মনে করেন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপির ৪.৫ শতাংশ ঘাটতির যে প্রস্তাবনা রয়েছে তা আরও কমানো যেতো।...

read more
বাজেট বিশ্লেষণে জন-অংশগ্রহণ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে
বাজেট বিশ্লেষণে জন-অংশগ্রহণ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সহায়ক হবে

-ডঃ আতিউর রহমান বাংলাদেশে সম্ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের বিকল্প নেই। এজন্য জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহন বাড়াতেই হবে। গণমাধ্যম এক্ষেত্রে বাজেট-প্রণেতাদের সঙ্গে জনগণের সংযোগ সূত্র হিসেবে...

read more
জলবায়ুবান্ধব উন্নয়নের জন্যই নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশের সহায়ক করনীতি দরকার
জলবায়ুবান্ধব উন্নয়নের জন্যই নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশের সহায়ক করনীতি দরকার

- ড. আতিউর রহমান ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস থেকে নেয়ার যে মহতি প্রত্যয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তা বাস্তবায়িত করতে জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য শক্তি খাত বিকাশের সহায়ক কর প্রস্তাব একান্ত...

read more